জাদুবাস্তবের কবি
তৈমুর খান
ফজলুল হক(১৩৫৮ বঙ্গাব্দ) নাজিম আফরোজ ছদ্মনামে মূলত শূন্য দশকেই কবিতা লিখতে শুরু করেন। গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি থাকলেও কবি হিসেবে তাঁকে চিনেছি ‘জাদুকথা'(২০১০) কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশের পর। কিন্তু ততদিনে নাজিম আফরোজ প্রিয় কবির তালিকায় ছাড়পত্র পেয়ে গেছেন। তাঁর কাবিতাগুলিতে এক অসাধারণ আলো পড়েছে, যাতে কবি আত্ম-উৎসের পথে বারবার হেঁটেছেন আত্মমগ্ন যাত্রায়।
নিজের মধ্যেই অনন্ত রূপের বিস্ময় আর প্রবৃত্তির জাগরণকেই জাদুকথা বলেছেন। এই জাদু মূলত আদি-উৎসের মধ্যেই নিহিত। সেইখান থেকেই সংবাদ আসে কবির অনুভূতিলোকে, স্নায়ুর কোষে কোষে। তাই কবিকে বলতে শুনি ‘চিঠি আসে, চিঠি আসে…’। এই চিঠি আসার শেষ নেই। এ চিঠি অনন্ত চিঠি, যে চিঠি রবীন্দ্রনাথের ‘ডাকঘর’ নাটকে রাজার চিঠি হিসেবেই অমলের কাছে আসার কথা ছিল। আমরা প্রত্যেকেই এই চিঠির জন্য পথ চেয়ে থাকি।
কবিতা কে লেখে?
কবিতা লেখেন এক সত্তা, আমাদের পার্থিব জীবনের আড়ালে যে বসবাস করে। চেনা জগতের ভিড়েও সে অচেনা। সে রূপ পেতে চায়, আবার রূপকেও পেতে চায়। ভালোবাসতে চায়, আবার ভালোবাসাও হতে চায়। আসলে সে কী যে চায় কেউই জানে না। কখনও যৌনতত্ত্ব, কখনও সমাজতত্ত্ব মনে হয় তার ভাষাকে। তার দেখা ছবিকে মনে হয়, এ তো বাস্তব, আমরা প্রতিদিন দেখি; আবার কখনও কখনও মনে হয়, না, একেবারে মিল নেই বাস্তবের সঙ্গে। নিজেকে মাঝে মাঝে বলতে হয়:
“চোখ বন্ধ করে হাঁটো দেখি
এবার চোখ খুলে হাঁটো দেখি
কথা বলো, কিন্তু সেই কথা কেউ যেন না শুনতে পায়
আলো জ্বালো, কিন্তু আলো যেন আঁধার রঙের হয়—
সন্ধ্যেবেলায়ও ভোর হোক দেখি…”
Continue Reading - https://sahitya.storyandarticle.com/taimur-khan/

0 Comments
ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা ।